বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | বাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ | আরবি: ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ

২৯.৬২°C
SP_WEATHER_LIGHT_RAIN Humidity: ৫৭%
Wind: SW at ১.২৯ M/S
বৃহস্পতিবার
২৪.২৪°C / ২৪.২৪°C
শুক্রবার
২৯.০৮°C / ২৯.০৮°C
শনিবার
৩২.৬৯°C / ৩২.৬৯°C
রবিবার
২৯.৫২°C / ২৯.৫২°C
সোমবার
২৬.২৭°C / ২৬.২৭°C
মঙ্গলবার
২৪.৬৩°C / ২৪.৬৩°C
বুধবার
২৪.১৪°C / ২৪.১৪°C

পুঠিয়া রাজবাড়িতে ঐতিহাসিক ভবন ভেঙে ইট বিক্রি—প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

পুঠিয়া রাজবাড়িতে ঐতিহাসিক ভবন ভেঙে ইট বিক্রি—প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ির ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর মাঝে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দ্বিতল ভবন এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংরক্ষিত পুরাকীর্তি বড় শিবমন্দির ও দোল মন্দিরের মাঝখানে অবস্থিত ভবনটি স্থানীয় এক প্রভাবশালীর উদ্যোগে ভেঙে ইট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ভবন ভাঙার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। স্থানীয়দের দাবি, রাজপরিবারের দ্বাররক্ষী নিতাই সিংয়ের আবাস হিসেবে পরিচিত এই ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকলেও তা রক্ষা করা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজবাড়ি জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকার সুযোগে মনিরুল ইসলাম ওরফে সাবু নামের এক ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে ভবনটি ভাঙা শুরু করেন। বাধা দেওয়া হলেও তিনি কাজ চালিয়ে যান। এমনকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শ্রমিক আটক ও মুচলেকা দেওয়ার পরও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হয়নি।

পুরাকীর্তি আইন ১৯৬৮ (সংশোধিত ১৯৭৬) অনুযায়ী, সংরক্ষিত নিদর্শনের আশপাশে কোনো ধরনের নির্মাণ বা পরিবর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ভবনটির মাত্র ১০ মিটারের মধ্যে শিবমন্দির এবং ৫ মিটারের মধ্যে দোল মন্দির অবস্থিত। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটিকে সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় নিলেও প্রজ্ঞাপন জারির আগেই এটি ধ্বংসের মুখে পড়ে।

অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম দাবি করেন, এটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং তার দাদা এক মাড়োয়ারির কাছ থেকে এটি ক্রয় করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার আইনি দিক জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডল সংশ্লিষ্ট কাস্টডিয়ানকে ডেকে পাঠান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার পরদিনই পুনরায় ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়।

পুঠিয়া রাজবাড়ি জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান বলেন, “কোনো স্থাপনার প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকলে ব্যক্তিগত মালিকানা থাকলেও তা ধ্বংস করা যায় না। তাকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু তিনি তা মানছেন না।”

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ির প্রায় ১০০ একর জমির মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ একর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ স্থানীয় দখলদারদের কবলে থাকায় একের পর এক ঐতিহাসিক নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় পুঠিয়ার সাধারণ মানুষ ও ইতিহাসপ্রেমীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুঠিয়া রাজবাড়ির অবশিষ্ট নিদর্শনও বিলীন হয়ে যাবে।

Image

সত্যের সন্ধানে জনগনের সাথে

Please fill the required field.