কলকাতা, ২ জুন:
কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি ধর্না মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশে সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল?”
ধর্না মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা এক “বড় খুনিকে” এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। তিনি দাবি করেন, ওই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।
মমতা বলেন, “অন্য দেশের বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই। তবে তারা মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের গ্রেফতার করে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ বাংলাদেশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মূল অভিযুক্ত—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে ফিলিপ সাংমা নামে আরও একজনকে নদিয়ার শান্তিপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়।
এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফয়সাল করিম মাসুদকে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য সরাসরি এই ঘটনাকে নির্দেশ করছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। মমতার ভাষায়, “হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন, আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।”
এ সময় তিনি বলেন, “আজ সরকার বদলে গেলেও আমি সব জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা-ভাণ্ডার, তথ্য-ভাণ্ডার, সত্য-ভাণ্ডার।”
ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা ব্যানার্জী অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন বিধায়কের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
