নিজস্ব প্রতিবেদক ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে (পুনরুত্থান দিবস)।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৭টায় সদর উপজেলার আমনুরা লুথারেন মিশনে এ উপলক্ষে বিশেষ উপাসনা ও আনন্দ কীর্তনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চ (বিএনইএলসি) ও আমনুরা লুথারেন মিশন।
উপাসনা পরিচালনা করেন বিএনইএলসি রাজশাহী সার্কেলের পাস্টর রেভারেন্ড রাজেন সরেন এবং মণ্ডলী পাস্টর সনাতন সরেন। এতে সহযোগিতা করেন আমনুরা মিশন লুথারেন চার্চের পালক ডেভিড ধনাই হেমব্রম।
এ সময় আমনুরা লুথারেন মিশন, মির্জাপুর, জলাহার, ঝিনাইখোর, বড়বন, চান্দলাইসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় চার শতাধিক খ্রিস্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন। উপাসনা শেষে তারা আনন্দ কীর্তনে অংশ নেন।
আমনুরা লুথারেন মিশন গির্জা ও কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির সদস্য এবং উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম জানান, আমনুরা লুথারেন মিশনটি জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন খ্রিস্টীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রতি রবিবারসহ অন্যান্য দিন নিয়মিত উপাসনা করে থাকেন। আজকের এই উপাসনায় বিশ্বের সকল মানুষের কল্যাণ, শান্তি এবং পরিত্রাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
আমনুরা মিশন যুব সংঘের সভাপতি জিহেস্কেল মুরমু বলেন, “ধর্মীয় গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পুনরুত্থান দিবস পালন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
সংগঠনের সম্পাদক জন হেমব্রম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সমন্বয়ে এ আয়োজন করা হয়েছে, যা ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, যীশু খ্রীষ্ট ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণের তিন দিন পর পুনরায় জীবিত হন এবং পরবর্তীতে স্বর্গারোহণ করেন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই ইস্টার সানডে বা পুনরুত্থান দিবস উদযাপন করা হয়।
পবিত্র বাইবেলের নতুন নিয়ম, মথি রচিত সুসমাচার (২৮:৬)-এ বলা হয়েছে—
“তিনি এখানে নাই; কেননা তিনি উঠিয়াছেন, যেমন বলিয়াছিলেন; আইস, প্রভু যেখানে শুইয়াছিলেন, সেই স্থান দেখ।”
