স্টাফ রিপোর্টার
স্বামী মো. রুমন আলীকে জীবিত উদ্ধার এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ফেরত পাওয়ার দাবিতে দুই সন্তানকে কোলে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্ত্রী নাসিমা সুলতানা (২২)। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার পাইলিং মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করেন নিখোঁজ রুমনের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
নাসিমার কোলে এক বছর বয়সী সন্তান রায়হান এবং দাদির কোলে ছিল তিন বছর বয়সী রোহান। বৃষ্টির মধ্যেই তারা স্বামী ও বাবাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে স্লোগান দেয়।
অবরোধের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী লাঠি হাতে সড়কে অবস্থান নেন।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২১ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার স্বামী রুমন আলী। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। চার দিন ধরে নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান না পেয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বজন ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, অসীম ও তার সহযোগীরা অটোরিকশা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে রুমনকে নিয়ে গিয়ে গুম করেছে। তিনি স্বামীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি অটোরিকশাটি ফেরত এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাইফুল্লাহ বলেন, অটোরিকশাটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসীম ও তার সহযোগীরা রুমনকে অপহরণ করেছে বলে তাদের ধারণা। অপহরণের দুই দিন পর স্থানীয় এক ব্যক্তি অসীমকে রুমনের অটোরিকশা নিয়ে ঘুরতে দেখেন। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হলেও রুমনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে রুমনের স্বজন রুমালি বেগম সন্তানকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে সড়কেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ চলার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা সড়ক ছেড়ে দেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অসীমসহ এজাহারনামীয় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুমনের অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রুমনকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
