স্টাফ রিপোর্টার:
আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমেও থাকছে না ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই গাছে আম পরিপক্ব হলেই তা বাজারজাত করা যাবে।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ ইয়াছিন আলী, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় আম চাষিদের সম্মতির ভিত্তিতে জানানো হয়, গাছে আম পাকলেই তা বাজারে বিক্রি করা যাবে। চাষিদের সুবিধার্থে আম পাড়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আম বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এছাড়া আমের ওজন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়। আম পরিবহন সহজ করতে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনের পরিবর্তে আন্তঃনগর ‘বনলতা’ ট্রেনে একটি বিশেষ বগি সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। পাশাপাশি ডাক বিভাগকে সক্রিয় করা এবং কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ম্যাংগো ক্যালেন্ডার না রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা। তারা মনে করছেন, এতে তাদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।
এদিকে, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টনের তুলনায় বেশি।
