স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের হাজী কলমদর দাখিল মাদ্রাসায় চারটি শূন্য পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে আত্মীয়করণ, অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে মাদ্রাসার সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির চারটি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সুপার ও সভাপতি তাদের আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাতে গেলে অন্যান্য প্রার্থী ও এলাকাবাসী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিবগঞ্জ উপজেলা অফিস থেকে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দিয়ে সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পূর্ব নির্দেশনাতেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সুপার আব্দুর রহিম ওই নির্দেশনা গোপন রেখে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন করে শাহাবাজপুর নলডুবরী দাখিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা গ্রহণ করেন এবং তার ও সভাপতির আত্মীয়দের নিয়োগ দেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪৪ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তা মাদ্রাসা ফান্ডে জমা দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের সময় তেলকুপি গ্রামের কিছু লোক সুপারের সঙ্গে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুপারকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসে। ঘটনাটি শিক্ষার্থীসহ একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।
বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার আব্দুর রহিম বলেন, “কিছু লোক মব সৃষ্টি করে আমাকে হেনস্তা করেছে। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, “নিয়োগ কমিটিতে আমি ও সুপার উপস্থিত ছিলাম না। তাই অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না। পরিকল্পিতভাবে সুপারকে অপদস্থ করা হয়েছে।”
শাহাবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান নিজামুল হক রানা জানান, “উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি মব ছিল না। আমার জানা মতে কাউকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। আলোচনার সময় সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
