চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত হাজারবিঘী বিলে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির ধান। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুনরায় একই পরিস্থিতির আশঙ্কায় বাঁধ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
শুক্রবার দুপুরে হাজারবিঘী বিলের ধারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে চার শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এসময় কৃষকদের সঙ্গে তাদের সন্তানরাও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ৫ বছর আগে বিল ইজারা নেওয়ার পর ইজারাদার নাসিম আলি পাশের একটি সরকারি খালে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করেন। এর ফলে গত বছর বিল সংলগ্ন প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা হাজারো কৃষকের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তারা বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও একইভাবে জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সরেজমিনে পরিদর্শনের পর শুধু আশ্বাস মিলেছে, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো ইজারাদারের পক্ষ থেকে কৃষকদের হুমকি ও মামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত সপ্তাহে তারা নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান চান, কিন্তু ১০ দিন পার হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি দ্রুত বাঁধ অপসারণ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
অন্যদিকে, বাঁধ অপসারণ করতে গিয়ে নিহত কৃষক নজরুল ইসলামের ভাই ওয়াহাব আলী বলেন, “ধান রক্ষা করতে গিয়ে আমার ভাই মারা গেলেও আমরা কোনো বিচার পাইনি। অবৈধ বাঁধও অপসারণ হয়নি। প্রশাসন আমাদের কথা গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
তবে অভিযুক্ত ইজারাদার নাসিম আলি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বারবার বাঁধ কেটে মাছ নষ্ট করা হচ্ছে। সরকার যদি আমাকে বিল ইজারা দেয়, তাহলে মাছ চাষ করতে না দিলে আমি কী করব?”
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোনে সাড়া না দিলেও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাবেন।
কৃষকরা দ্রুত অবৈধ বাঁধ অপসারণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
