বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | বাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ | আরবি: ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ

২৯.৬২°C
SP_WEATHER_LIGHT_RAIN Humidity: ৫৭%
Wind: SW at ১.২৯ M/S
বৃহস্পতিবার
২৪.২৪°C / ২৪.২৪°C
শুক্রবার
২৯.০৮°C / ২৯.০৮°C
শনিবার
৩২.৬৯°C / ৩২.৬৯°C
রবিবার
২৯.৫২°C / ২৯.৫২°C
সোমবার
২৬.২৭°C / ২৬.২৭°C
মঙ্গলবার
২৪.৬৩°C / ২৪.৬৩°C
বুধবার
২৪.১৪°C / ২৪.১৪°C

নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগে শিক্ষক বিতর্কে

নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগে শিক্ষক বিতর্কে

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কোচিং/প্রাইভেট পড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রানা বাবু নিয়মিতভাবে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করছেন। একাধিক অভিভাবকের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ চাপ সৃষ্টি করে প্রাইভেটে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি ক্লাসে ইচ্ছাকৃত শৈথিল্য দেখানো এবং পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কোচিং করাতে পারেন না। এ ধরনের কার্যক্রম স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক আচরণবিধিতেও নিজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি কেবল একটি অনিয়ম নয়; বরং একটি সংগঠিত কোচিং বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক রানা বাবু সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রাইভেট পড়াই, পড়াবো। আপনাদের কোনো বক্তব্য দেবো না। যা পারেন লিখেন, আমার কোনো সমস্যা নাই। এর আগে অনেক অভিযোগ হয়েছে, কেউ কিছু করতে পারেনি। আমি সবাইকে ম্যানেজ করি অফিসসহ। আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।”

এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের মতে, তার এই দম্ভ ও বেপরোয়া মনোভাব শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলার জন্য হুমকি।

এ বিষয়ে লাওঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম জানান, জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্কুলে কোনো ধরনের প্রাইভেট না পড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জয়নাল আবেদিন বলেন, “স্কুলে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বিস্তার লাভ করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Image

সত্যের সন্ধানে জনগনের সাথে

Please fill the required field.