শীতকাল এলেই যেন খাওয়ার আনন্দ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গরমকালে সামান্য খেলেই শরীরে অস্বস্তি শুরু হলেও শীতে তার ঠিক উল্টো ছবি দেখা যায়। রকমারি শাকসব্জি, কাবাব থেকে তন্দুর—এই মরসুম যেন খাওয়ারই সময়। পিঠে-পুলি, কেক-পেস্ট্রি, কচুরি-তরকারি—শীতকালে কোনও কিছুই যেন বাদ দেওয়া যায় না।
তার উপর আজ পিকনিক তো কাল পার্টি—পুরো শীতজুড়েই যেন ভোজের আমেজ। আর বেশি খাওয়ার ফল যা হওয়ার, তা-ই হয়—ধীরে ধীরে বেড়ে যায় ওজন, বাড়তে শুরু করে পেটের মেদ। নতুন বছরে রোগা হওয়ার যে প্রতিজ্ঞা মনে মনে করেছিলেন, শীতের বাহারি খাবার চোখের সামনে এলেই সব পরিকল্পনা যেন এলোমেলো হয়ে যায়।
তাহলে শীতের দিনে এই ‘খাই খাই ভাব’ কমাবেন কীভাবে? সহজ ও কার্যকর চারটি কৌশলের কথা জানালেন পুষ্টিবিদ রেবেকা তাবাসসুম।
১. ডায়েটে বাড়ান প্রোটিন
রোজের খাবারে বেশি করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন। যেমন—বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ এবং কম চর্বিযুক্ত মাছ-মাংস (লিন মিট)। প্রোটিন হজম হতে সময় লাগে বেশি, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে ভাজাভুজি বা তেল-মশলাদার খাবারের প্রতি আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।
২. পর্যাপ্ত জল পান করুন
অনেক সময় তেষ্টা পেলেও আমরা খিদে পেয়েছে বলে ভুল করি। আসলে তৃষ্ণাও ক্ষুধার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শীতকালে জল খাওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়ায় খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। তাই শরীরের জলের ঘাটতি মেটাতে নিয়ম করে বেশি জল পান করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খান
শীতকালে দু’টি খাবারের মাঝে খুব বেশি সময়ের ব্যবধান রাখা ঠিক নয়। জলখাবার বাদ দিয়ে সরাসরি দুপুরের খাবারে বসা বড় ভুল। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে খেতে বসে অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট সময়ে অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
শীতের রাতে পার্টি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা রাত জাগা বেড়ে যায়। ফলে ঘুমের ঘাটতি হয়। কিন্তু কম ঘুমালে শরীরে ‘হাঙ্গার হরমোন’ ঘ্রেলিনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার ফলে খিদে আরও বাড়ে। খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি।
শীতের আনন্দ উপভোগ করুন, তবে সচেতন থাকুন খাবার ও জীবনযাপনে। তাহলেই উৎসবের মরসুমেও ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
