নিজস্ব প্রতিবেদক, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের সংঘাত বা বিবাদের রাজনীতিতে নেই। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সঠিক তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিএনপি সহযোগিতা করবে, তবে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজশাহীর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পদ্মা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে দেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহীকে ‘শিক্ষানগরী’ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষিত যুবকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এজন্য রাজশাহীর আইটি পার্ক পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি আম চাষিদের উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার নির্মাণসহ বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে কিনা। নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে।
এছাড়াও তিনি রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে সরাসরি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিএনপির মূলমন্ত্র তুলে ধরে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জোবায়দা রহমান। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
দুপুর থেকেই মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। জনসভা ঘিরে পুরো শহরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
