নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল বাতেন
দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ও আলোচিত নাম। তিনি ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। দেশভাগের পর তাঁর পরিবার ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে; তাঁদের আদি নিবাস ফেনী জেলায়। শিক্ষাজীবনে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে দৃঢ় অবস্থান, বারবার গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক আপসহীনতার কারণে তিনি দ্রুতই “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। শাসনামলে শিক্ষা খাতে বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য শিক্ষা সহায়তা এবং নারী ক্ষমতায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন; জাতিসংঘে গঙ্গার পানি বণ্টন ইস্যু উত্থাপন করেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেন।
২০০১ সালে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহু চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাননি। সব মিলিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন প্রভাবশালী, দৃঢ়চেতা ও গুরুত্বপূর্ণ নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
