নিজস্ব প্রতিবেদক
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ সকাল ছয়টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক শোক ও সমবেদনার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একটির শিরোনাম— “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন” এবং অন্যটি— “খালেদা জিয়া: নিহত এক নেতার বিধবা স্ত্রী থেকে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী”।
প্রতিবেদনগুলোতে তার জন্ম, রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ, নেতৃত্বে উত্থান এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুটি আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একটিতে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়, অপরটিতে তাকে ক্ষমতা, সংগ্রাম ও প্রতিরোধে ভরা এক রাজনৈতিক জীবনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার জনসমক্ষে আলোচনায় আসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে উঠে এসে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তিনি একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামীকাল বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
একটি অধ্যায়ের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাজনীতি হারাল এক প্রভাবশালী ও আলোচিত নেত্রীকে।
