স্টাফ রিপোর্টার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অন্তত ১২ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সাতজনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রুটি ও ডিম বিতরণ করা হয়। খাবার খাওয়ার পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রামীণ কর্ম-সহায়ক সংস্থা (গাক) কর্তৃক সরবরাহ করা রুটি ও ডিম খাওয়ার পর ৭-৮ জন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির। তাদের মধ্যে তিনজন ছাত্র ও চারজন ছাত্রী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাকের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমন্বয়কারী কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি বর্তমানে টাঙ্গাইল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত জানার পর এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন বলে জানান। তবে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগেও গাকের সরবরাহ করা খাবার খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়েছিল এবং কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় দুই দফা, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় একবার করে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নষ্ট ও পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।
নতুন করে একই ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে।
