ভোলাহাট সংবাদদাতা:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মুক্তারুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্ত্রী মোসা. নিপা বেগমের দায়ের করা মোহরানা ও ভরণ-পোষণ মামলাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পারিবারিক আদালতে স্ত্রী ভরণ-পোষণ ও বকেয়া মোহরানা দাবি করেছেন, অন্যদিকে মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছে স্বামীর পরিবার এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী মুক্তারুল ইসলাম ও নিপা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। নিপা বেগমের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ কারণে তিনি পারিবারিক আদালতে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা বকেয়া মোহরানা এবং নিজের ও দুই সন্তানের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভরণ-পোষণ দাবি করে মামলা করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুক্তারুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা। তার মা সেরিনা বেগমের দাবি, নিপা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং একাধিকবার বাড়ি ছেড়ে চলে যান। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশের মাধ্যমে তাকে সংসারে ফিরিয়ে আনা হলেও প্রায় এক বছর আগে তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে চলে যান এবং পরে গোলাপবাজার সরকারপাড়া এলাকার হেলাল নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। এরপরও মুক্তারুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
মুক্তারুলের বাবা মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, বাড়ি ছাড়ার সময় নিপা স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা নিয়ে গেলেও তারা কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি। অথচ এখন তাদের ছেলেকেই মামলায় কারাগারে থাকতে হচ্ছে।
সরেজমিনে খাসপাড়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ডালিম জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা জোবদুল ও শীষ মোহাম্মদ বলেন, সামাজিকভাবে বহুবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। তাদের দাবি, নিপা বর্তমানে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন।
একই এলাকার বাসিন্দা আরমানী, জবেদা, আকতারা ও রুমা বেগমের ভাষ্য, মুক্তারুল একজন ভালো মানুষ। অথচ তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করার পরও মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
মুক্তারুল ও নিপার আট বছরের মেয়ে কেয়া মনি জানায়, সে বর্তমানে দাদীর কাছে থাকে। তার দাবি, মা তাকে রেখে চলে গেছেন এবং বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এদিকে, বাদী নিপা বেগমের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে কল কেটে দেন।
নিপার প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোখলেসুর রহমান দাবি করেন, নিপার আগেও ভোলাহাটের খাসপাড়ায় একটি বিয়ে হয়েছিল। পরে সেই সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি হেলাল নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।
অন্যদিকে, হেলালের আগের স্ত্রী রোজিনার মা আলিয়া বেগম অভিযোগ করেন, হেলাল নিপাকে বিয়ে করার পর তার মেয়ে চার সন্তান রেখে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতে বাধ্য হয়েছেন।
হেলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজে ফোনে কথা বলেননি। ফোন রিসিভ করা অন্য একজনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর রেজা বলেন, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, হেলাল নিপা নামে এক নারীকে বিয়ে করার পর তার আগের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
উল্লেখ্য, পারিবারিক আদালতে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব বক্তব্য। বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের রায় ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
