নিজস্ব প্রতিবেদক, নিজেদের সন্তানের দেখাশোনার জন্য ১১ বছরের এক কন্যাশিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে বাসায় এনে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্য দুইজন হলেন—বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম। উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জানান, দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে তার একমাত্র ১১ বছর বয়সী মেয়েকে বাচ্চা দেখাশোনার কাজের কথা বলে অভিযুক্ত দম্পতির বাসায় নেওয়া হয়। এ সময় তারা শিশুটির ভবিষ্যৎ বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দেন।
এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে গত বছরের জুন মাসে মেয়েকে তাদের বাসায় কাজে পাঠান তিনি। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর মেয়ের সঙ্গে দেখা হলেও এরপর আর তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি অভিযুক্ত এমডির স্ত্রী বিথী ফোন করে শিশুটির অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটিকে বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, মেয়েকে নেওয়ার সময় তার দুই হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। শিশুটি তখন স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। আঘাতের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
পরবর্তীতে শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির ওপর মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে সেঁক দেওয়া হতো।
এ ঘটনায় সাহস করে মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা। মামলার পরই পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
