চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তের মোল্লাটোলা গ্রামে বাস করেন ভাই ও তাদের সন্তানরা।অন্যদিকে বিয়ের কারনে বোন ৫০ বছর ধরে বাস করেন ভারতের মালাদা জেলায়।কাঁটাতারের বেড়ার কারনে দীর্ঘ ১০ বছর থেকে বোনের জীবিত মুখ দেখতে না পারলেও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে আকুতি -মিনতির পর বোনের মরা মুখ দেখতে পারলেন। বিজিবি ও বিএসএফের সমন্বিত সহযোগিতায় মৃত এ ভারতীয় নারীর মরদেহ তার বাংলাদেশে অবস্থানরত আত্মীয়দের দেখানো সুযোগ পেয়ে অনেকটা খুশি ভাতীয় ঐ নারীর স্বজনরা।
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে আজমতপুর সীমান্তে এ সুযোগ দেয় বিএসএফ।এ সময় সেখানে এক শোকের ছায়া নেমে আসে।কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ভাই তোফাজ্জল হক ।
এর আগে মৃত মহিলার ভাই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাটোলা গ্রামের মোঃ তোফাজ্জল হক সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মরদেহটি একনজর দেখার আবেদন জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কাছে।
মৃত ঐ মহিলার নাম সেলিনা বেগম (৭০)। তিনি মোল্লাটোলা গ্রামে জন্ম গ্রহন করলেও বিবাহ সূত্রে ভারতের মালদা জেলার গোলাপগঞ্জ থানার চকমাহিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত গাজলুর রহমানের স্ত্রী। গত ৭ নভেম্বর রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
৫৯ বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে শনিবার বিকেলে জানায়,মৃত মহিলার স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মানবিক কারনে দ্রæত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে আজমতপুর বিওপি’র সীমান্ত পিলার ১৮২/২-এস এর নিকট আন্তর্জাতিক শূন্য লাইনে মরদেহটি আনার পর বাংলাদেশী স্বজনদের সেখানে নিয়ে দেখানো হয়।
এসময় মৃত সেলিনা বেগমের লাশ দেখে তার বাংলাদেশি -স্বজনরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে পেরে তারা পরিতৃপ্ত হন।
তোফাজ্জল হক জানান, আমি অনেকদিন থেকে আমার বোনকে দেখিনা।তবে শেষ সময়ে আমাকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বিজিবি এবং বিজিবির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বিজিবি অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে। এ ধরনের যেকোন মানবিক উদ্যোগ আমরা মৌলিক কর্তব্য হিসেবে দেখি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
