নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বকাপে নামছে আগের চেয়ে অনেক বেশি চাপ নিয়ে। গত আসরের আগে লিওনেল মেসিদের মাথায় চ্যাম্পিয়নের তকমা ছিল না। তুলনামূলক অপরিণত দল নিয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছিল তারা। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল।
বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন স্কালোনি। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া এই দলে রয়েছে ভারসাম্য। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার যেমন রয়েছেন, তেমনি সুযোগ পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও।
শক্তিশালী মাঝমাঠে একাধিক বিকল্প
আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে রয়েছে দারুণ গভীরতা। এঞ্জো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো ডি পলের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি আছেন জিওভানি লো সেলসো ও তরুণ ভ্যালেন্টিন বার্কো। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে স্কালোনির হাতে।
গোলপোস্টে নির্ভরতার প্রতীক মার্তিনেজ
গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেছিল। চাপের মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা এবারও আর্জেন্টিনার বড় শক্তি।
আক্রমণে মেসি-আলভারেজ-লাউতারোর ত্রয়ী
বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দলে রয়েছেন। ঘরোয়া মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে রয়েছেন জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে অন্যতম শক্তিশালী ধরা হচ্ছে।
মেসিই শক্তি, মেসিই দুর্বলতা
৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন মেসি। এই বয়সে প্রতিটি ম্যাচে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলা সহজ নয়। পাশাপাশি দলের অনেক খেলোয়াড়ই মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে মেসির শারীরিক অবস্থা ও ম্যাচ ফিটনেস সামলানো স্কালোনির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
রক্ষণভাগে পরিবর্তনের সময়
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডির বয়স বেড়েছে এবং তার গতি আগের তুলনায় কমেছে। ফলে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা ও গঞ্জালো মন্টিয়েলদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। রক্ষণভাগের এই রূপান্তর আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
নজরে নতুন প্রজন্ম
এবারের বিশ্বকাপে নিকোলাস পাজ, ভ্যালেন্টিন বার্কো, থিয়াগো আলমাদা ও জিউলিয়ানো সিমিওনের মতো তরুণদের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। ২০২২ সালে যেমন এঞ্জো ফার্নান্দেজ ও জুলিয়ান আলভারেজ নিজেদের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তেমনি নতুন কয়েকজন ফুটবলারও আলোচনায় উঠে আসতে পারেন।
পরিচিত আবহাওয়ার সুবিধা
আর্জেন্টিনা দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় খেলেন। লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো ডি পলের মতো ফুটবলাররা সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আত্মবিশ্বাস নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে প্রত্যাশার বিশাল চাপ সামলে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারলেই কেবল আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে মেসিদের।
