নিজস্ব প্রতিবেদন:
প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য—যে কোনও জলবায়ুতেই ফলমূল ও খাবার সংরক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনেই ফল ও সবজিতে পচন ধরার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতকালে কমলালেবু, আঙুরের মতো টকজাতীয় ফলের চাহিদা বাড়লেও সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে খুব দ্রুতই সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলের অভাবে ফলের খোসায় ছত্রাক জন্মাতে পারে। কোথাও রস শুকিয়ে যাওয়া, আবার কোথাও অতিরিক্ত পেকে গিয়ে নরম হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে ফল সংরক্ষণের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক বাড়িতেই ফ্রিজের ট্রে-তে নানা ধরনের ফল একসঙ্গে রাখা হয় বা রান্নাঘরের ঝুড়িতে স্তূপ করে রাখা হয়। কিন্তু এর ফলেই বাড়ে পচনের ঝুঁকি। কারণ কলা, আপেল ও নাশপাতির মতো কিছু ফল থেকে নির্গত হয় ইথাইলিন গ্যাস, যা আশপাশে থাকা অন্য ফলের পচনকে ত্বরান্বিত করে। টকজাতীয় ফল ইথাইলিনের বড় উৎস না হলেও এই গ্যাসের সংস্পর্শে এলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাধারণত সাইট্রাস জাতীয় ফল ফ্রিজে রাখা হলেও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সেগুলি ঝুড়িতে রাখার চল আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশ বা মহাদেশ যাই হোক না কেন, ইথাইলিন গ্যাসের সংস্পর্শে এলে ফল নষ্ট হওয়া অনিবার্য।
এ ছাড়াও কোন পাত্রে ফল রাখা হচ্ছে, তার উপরেও পচনের গতি নির্ভর করে। বাটিতে ফল রাখলে নীচের ফলের উপর চাপ পড়ে দ্রুত নষ্ট হয়। আবার প্লাস্টিকের থলিতে রাখলে আর্দ্রতা জমে ছত্রাক সংক্রমণ বাড়ে। বাজার থেকে আনার পরই ফল ধুয়ে রাখাও ক্ষতিকর—কারণ এতে আর্দ্রতা আটকে গিয়ে পচন ত্বরান্বিত হয়। ফল ধোয়া উচিত খাওয়ার ঠিক আগে।
বিশেষজ্ঞদের আরও পরামর্শ, একসঙ্গে রাখা ফলের মধ্যে কোনও একটি নষ্ট হতে শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি আলাদা করে ফেলতে হবে। নচেৎ সেই পচা ফল থেকে নির্গত ইথাইলিন গ্যাস বাকি ফলগুলিকেও দ্রুত নষ্ট করে দিতে পারে।
সঠিক নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলেই শীতকালেও ফল দীর্ঘদিন টাটকা রাখা সম্ভব—এমনটাই মত খাদ্য বিশেষজ্ঞদের।
