চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুগ্ম জেলা জজ আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন।
এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পুলিশ জানায়, আদালতে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এর আগে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিএনপির পক্ষ থেকে অবশ্য ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলটির দাবি, জামিন না দেওয়ার পাশাপাশি বিচারক চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার সময় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
এ সময় যুগ্ম জেলা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে আদালতের এজলাসের জানালা এবং বিচারকের খাস কামরার দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক আইনজীবী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্ভোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এরপর বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করে এজলাসে বিক্ষোভ শুরু হয় বলে অভিযোগ।
পরে একই মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামির জামিন আবেদন নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় গেলে বিচারক তাঁকে পরদিন আবেদন করতে বলেন। এরপরই বিক্ষোভকারীরা এজলাসের জানালা ও বিচারকের খাস কামরার দরজা ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিচারকের খাস কামরার সামনে মব সৃষ্টি করে এবং দরজায় ভাঙচুর চালায়। ঘটনাটি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এটিকে ‘মব সংস্কৃতির’ অংশ বলে মন্তব্য করেন।
মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
